জুন ১৮, ২০২১
মানচিত্র
অর্থনীতি

টিকায় ৩ মাসে বেক্সিমকোর মুনাফা ৩৮ কোটি টাকা

প্রাণঘাতী করোনার জন্য আনা টিকায় তিন মাসে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মুনাফা হয়েছে ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর তাতে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে বেক্সিমকো ফার্মার মুনাফা হয়েছে ১৪৬ কোটি ৩২ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৫ টাকা। যা আগের বছরের প্রায় দেড়গুণ বেশি।

রোববার (২ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ডিএসইর তথ্য মতে, বেক্সিমকো ফার্মা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে আমদানির করছে। দেশের করোনাভাইরাসে প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে সব মিলে ৩ কোটি ডোজ টিকা আনার জন্য চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুসারে জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে মোট ৫০ লাখ টিকা সেরামের কাছ থেকে এনেছে। তাতে সব কর এবং খরচ বাদে মুনাফা হয়েছে ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

তবে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৭০ লাখ টিকা এসেছে বলে ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ আলী নেওয়াজ। তিনি বলেন, ৩ কোটি ডোজ করোনার টিকার মধ্যে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে তাই উল্লেখ্য করা হয়েছে। বাকি ২০ লাখ চতুর্থ প্রান্তিকে দেখানো হবে।

ডিএসইর তথ্য মতে, গত ছয় থেকে আট মাস ধরে পুঁজিবাজারে রাজত্ব করে আসা বেক্সিমকো ফার্মার সর্বশেষ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ৩ টাকা ২৮ পয়সা। যা ২০২০ সালের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে ৫৬ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ২৩৩ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আয় হয়েছে করোনা টিকার আমদানির আয় থেকে।

ফলে গত বছরের ২ আগস্ট ৮৫ টাকায় লেনদেন হওয়া বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার ২ মে (রোববার) কেনা-বেচা হয়েছে ১৯২ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ ৯ মাসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি।

উল্লেখ্য, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি করা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা বাংলাদেশে আমদানির জন্য চুক্তিবদ্ধ একমাত্র প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা। বাংলাদেশ সরকার, সেরাম ইনস্টিটিউট ও কোম্পানিটির মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় এ টিকা আমদানি করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, বেক্সিমকো ফার্মা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ করোনার টিকা আনবে। এই তিন কোটি ডোজ টিকার মধ্যে কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত ৭০ লাখ টিকা এনেছে। বর্তমানে ভারত থেকে করোনার টিকা আসা বন্ধ রয়েছে।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩০ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ, বিদেশিদের হাতে রয়েছে ২৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার।

বর্তমানে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ঋণে থাকা কোম্পানিটির ২০২০ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল।

মানচিত্র২৪/রা.হা

Related posts

এডিবি’র অর্থায়নেই শুরু হচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ

Labonno

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হবে গৌরবের: অর্থমন্ত্রী

Labonno

সবজির বাজারে স্বস্তি, বেড়েছে তেলের দাম

Labonno

Leave a Comment

Translate »