মে ৮, ২০২১
মানচিত্র
বাংলাদেশ

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সীমাবদ্ধতা আছে: বিডা

করোনা পরিস্থিতি ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘদিন ধরে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অনেক আলোচনা হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি নেই। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শনিবার (১৭ এপ্রিল) এক অনলাইন ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তারা।  ‘এফডিআই ফর এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন এন্ড স্মুথ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন’ শীর্ষক এ ওয়েবিনার যৌথভাবে আয়োজন করে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ), দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ পলিসি ইনটিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)।

ইআরএফের সহ-সভাপতি এম শফিকুল আলমের সভাপতিত্বে এ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেন। এক্ষেত্রে বিডার পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ঘাটতিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশে কর্মরত বিদেশি ৫০ হাজার কর্মীর জন্য টিকা চাওয়া হয়েছিল। একাধিক সভা এবং চিঠি দেওয়ার পরও তা এখনো হয়নি। তারা এই টিকা পেলে বিষয়টি ইতিবাচক হতো। বিনিয়োগ আকর্ষণে বিডা’র বিভিন্ন কার্যক্রমও তুলে ধরেন তিনি।

পরিকল্পনা মন্ত্রী সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে  জিডিপি এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষ আয় করতে পারছে, এটা ইতিবাচক।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার সময় র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক করোনা পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিযোগী অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ অনেক কম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ একই সময়ে কম্বোডিয়ায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৪ বিলিয়ন ডলার আর ভিয়েতনামে ১৬১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশে বার্ষিক বিদেশি বিনিয়োগের জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র এক শতাংশের মতো আর ভিয়েতনামে তা প্রায় ৬ শতাংশ। অথচ সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাসহ অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

কিন্তু দেশে প্রত্যাশিত বিদেশি বিনিয়োগ না আসার পেছনে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নানা ধরণের জটিলতার কারণে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজ করার সূচকে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। অবকাঠামোগত  দুর্বলতা শ্রমিকদের দক্ষতার ঘাটতি, দুর্নীতি, ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণতা, সম্পত্তির নিবন্ধনে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা, ঋণ প্রাপ্তিতে জটিলতা, বিভিন্ন অবকাঠামোর অনুমোদন প্রাপ্তিতে জটিলতা কিংবা ব্যবসা শুরু করতে অনেক বেশি সময় লেগে যাওয়াকে দায়ি করেন তিনি।

তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতির পথে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছর রপ্তানিতে সুযোগ পেতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যেই ইউরোপ, কানাডাসহ বড় বাজারগুলোতে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ আকর্ষণে চলমান সীমাবদ্ধতা দ্রুত সমাধান করা, ব্যবসা সহজ করার সূচকে উন্নতি করার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, বিদেশিরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের এই সূচকটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বিনিয়োগ আকর্ষণে কর ব্যবস্থাকে অন্যতম বাঁধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান কর প্রদান পদ্ধতি ব্যবসাবান্ধব নয়। বর্তমান কর ব্যবস্থাপনায় ব্যবসা বন্ধই করে দেওয়া উচিত। এটি ঠিক না হলে বিদ্যমান ব্যবসাই থাকবে না, নতুন ব্যবসা তো দূরের কথা।

এনবিআরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এনবিআর বিনিয়োগ চায় না। তিনি বিনিয়োগ আকর্ষণে এলোমেলো চিন্তা না করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করার পরামর্শ দেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, হালকা প্রকৌশল খাত, নন কটন তৈরি পোশাক পন্যে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বিদ্যমান কর কাঠামো নিয়ে অসন্তোষের কথা জানান ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানও। তিনি কর কাঠামোর সংস্কারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করহার অনেক বেশি। এসময় সরকারের কালো টাকা বিনিয়োগের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, কর না দিলে সাড়ে ২২ শতাংশ লাভ। কেননা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় কর দিতে হয় মাত্র ১০ শতাংশ। তাহলে বোকার মত কেন মানুষ ট্যাক্স দেবে? এছাড়া কালো টাকা পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নেয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বলেন, কালো টাকা পুঁজিবাজারে ঢোকার পর ২০১০ সালে যা হয়েছে, আবারো সেই পথে যাচ্ছে। পুঁজিবাজার ও আবাসনে না দিয়ে এই সুযোগ স্বাস্থ্য খাত, অবকাঠামোসহ উন্নয়নশীল খাতে দেয়া উচিত এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য খাতকেও সমান সুবিধা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এমসিসিআইর সভাপতি ব্যরিস্টার নিহাদ কবীর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়হীনতা ও অদূরদর্শিতার একাধিক উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এভাবে দেশ এগিয়ে যাবে না। টার্গেটেড পলিসি নিতে হবে।

Related posts

চিনিকলের কর্মীরা কেউ ছাঁটাই হবে না

Labonno

মানিকগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এনজিওকর্মী

Rabbi Hasan

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার গ্যাস থাকবে না

Shahidul Islam

Leave a Comment

Translate »