অক্টোবর ১৬, ২০২১
মানচিত্র
জাতীয়

চাল আমদানি শুরু হলেও বাজারে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না

চাল আমদানি শুরু হলেও বাজারে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বরং আমদানি হচ্ছে, এমন খবর প্রচার হওয়ার পর গত মাসে চালের বাজার কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। এখন আমদানি শুরুর পর চিত্র পাল্টে গেছে। আবারও বাড়তে শুরু করেছে দাম। আমদানির ধীরগতির কারণেই চালের বাজারে প্রভাব পড়ছে না বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ধীরগতির কারণে সার্বিকভাবে চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। এরই মধ্যে গত রবিবার এলসি (ঋণপত্র) খোলার সময় দ্বিতীয়বার বাড়িয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এখন ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলসি খুলে চাল আমাদানির সুযোগ পেয়েছেন আমদানিকারকরা।

সম্প্রতি চালের দাম বৃদ্ধির কারণ নিয়ে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে আসে। তাতে চালের দাম বাড়ার কয়েকটি কারণের মধ্যে সরকারের কম চাল সংগ্রহ, যথাসময়ে আমদানির ব্যর্থতা এবং প্রয়োজনীয় বাজার হস্তক্ষেপের অভাবকে অন্যতম বলা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত চাল আমদানির কথা বলা হলেও বাস্তবে গতি খুবই ধীর। নিজেদের গতির পরিপূরক হিসেবে বেসরকারিভাবে সরকারির চেয়ে দ্বিগুণের বেশি চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ের চাল আমদানির চিত্র আরো হতাশাজনক।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর সরকারিভাবে (জিটুজি ও পিটুজি) চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে চার লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে গত রবিবার পর্যন্ত বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার ১২৯ মেট্রিক টন। আর সরকারের আমদানির চালের ৫৬ হাজার ৩৯১ মেট্রিক টন দেশে পৌঁছেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পিকে অ্যাগ্রি লিংক নামের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিন দফায় এক লাখ ১০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি করেছে সরকার। সিঙ্গাপুরের অ্যাগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে দুই দফায় এক লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের মুম্বাইয়ের ইটিসি অ্যাগ্রো প্রসেসিং, রিকা গ্লোবাল ইমপেক্স নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টন করে আরো এক লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি করেছে সরকার। ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে দেড় লাখ টন চাল কেনারও চুক্তি হয়েছে। এর বাইরে মিয়ানমার থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে আরো এক লাখ টন চাল কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিগগিরই এ বিষয়ে চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে পিকে অ্যাগ্রি লিংকের সঙ্গে করা চুক্তির প্রথম দফার ৫০ হাজার টন চালের মধ্যে পুরোটাই বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে রপ্তানিকারক সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু গত রবিবার পর্যন্ত ২৭ হাজার মেট্রিক টনের কিছু বেশি সরকারি গুদামে পৌঁছেছে বলে খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। প্রথম দফায় করা চুক্তি অনুযায়ী অ্যাগ্রি লিংক থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি চাল কেনার চুক্তি করেছে সরকার। দ্বিতীয় দফায় একই মানের চাল ৩৩ টাকা কেজিতে কেনার চুক্তি হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, রপ্তানিকারকরা চাল পাঠাতে দেরি করছে, দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে, দেশে ঢুকতে গিয়ে বন্দর ও রাস্তায় দেরি হচ্ছে। তাই চাল আমদানি করেও বাজারে প্রত্যাশিত প্রভাব পড়ছে না।

অন্যদিকে ভারতের একটি রপ্তানিকারক সূত্র গত সোমবার  জানায়, চালের দাম মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক দেরি হচ্ছে। প্রত্যাশিত গতিতে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।

আমদানির পরও চালের দাম বাড়ার কথা স্বীকার করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে আমদানির চাল স্থলবন্দরে খালাসে দেরি হওয়ায় বাজারে প্রবেশ করতে সময় লাগছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে চাল বিক্রির সুযোগ নিচ্ছেন।

বেসরকারি আমদানির চিত্র : ২৬ জানুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে আটটি সীমান্ত জেলার (যেগুলোতে স্থলবন্দর রয়েছে) জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের চিঠি দিয়ে আমদানীকৃত চালের বাজার তদারকি করতে বলা হয়েছে।

যশোরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুর রহমান  জানিয়েছেন, গত শনিবার পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল এসেছে। সাতক্ষীরা জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহেদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ১৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আমদানি হয়েছে। দিনাজপুর হিলি দিয়ে এসেছে সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে এসেছে মাত্র ৩৯০ মেট্রিক টন।

গত রবিবার পর্যন্ত লালমনিরহাটের বুড়িমারী বন্দর দিয়ে মাত্র ৯৫৭ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। বাকি ১২ হাজার ১৮১ টন চাল এসেছে অন্য বন্দর দিয়ে

এ সপ্তাহে চালের বাজার : আমদানির সিদ্ধান্তের আগে মোটা ও মাঝারি মানের চাল যেমন—গুটি, স্বর্ণা, পাইজাম, আটাশ ইত্যাদি চালের দাম উঠেছিল ৪৬ থেকে ৫৪ টাকা কেজি। আমদানির সিদ্ধান্তের খবর প্রচারিত হওয়ার পর সেই দাম নেমেছিল ৪২ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। এখন আমদানির ধীরগতি এবং আমদানীকৃত চালের দাম বেশি হওয়ার কারণে আবারও আগের দামে ফিরেছে বাজার। এখন আমদানি করা মোটা চালও বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা কেজি। মাঝারি মানের চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৪ টাকা।

Related posts

পুলিশকে ফুলহাতা শার্ট পরার নির্দেশ

Shahidul Islam

শিমুলিয়া ঘাটে চলছে ১৪ ফেরি, নেই যাত্রীদের ভিড়

Maydul Islam

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু

Sakib

Leave a Comment

Translate »