অক্টোবর ১৯, ২০২১
মানচিত্র
আন্তর্জাতিক ব্রেকিং নিউজ

অং সান সু চিকে আটক করেছে সেনাবাহিনী

মানচিত্র ডেস্কঃ
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি- এনএলডির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই পদক্ষেপকে একটা সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি, আলজাজিরা, রয়টার্সসহ বিশ্ব শীর্ষ সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাদের গ্রেফতার অভিযানে সেনাবাহিনী নাকি অন্য কোনও বাহিনী নেতৃত্ব দিয়েছে, তা বলা হয়নি।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসের নির্বাচনে এনএলডি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সেনাবাহিনী সমর্থিত প্রভাবশালী বিরোধীদল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। কদিন আগে সেনাপ্রধান জেনারেল মিং অং হ্লাং বলেন, প্রয়োজন হলে সংবিধান বাতিল করা হতে পারে। তারপর থেকেই অভ্যুত্থানের গুঞ্জন শুরু হয়। এরপর অভ্যুত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করে এর নিন্দা জানায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। তবে এ আশঙ্কাকে ভুল বলে বিবৃতি দেয় সেনাবাহিনী। এর দু’দিন পরই গ্রেফতার হলেন সু চি, মিন্টসহ দেশটির নির্বাচিত শীর্ষ নেতারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় সেনারা টহল দিচ্ছে। প্রধান প্রধান শহরে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলছে, কারিগরি জটিলতায় সম্প্রচার কার্যক্রম থেমে গেছে। বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিবেদক জনাথন হেড বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছে এটা স্পষ্টত একটা অভ্যুত্থান। তিনি মনে করছেন, সংবিধানের আওতার মধ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি করার ক্ষমতা রাখে। তবে সু চির গ্রেফতার খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

সোমবার ভোরে এনএলডির মুখপাত্র মিয়ো নিউন্ট রয়টার্সকে বলেন, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা, প্রেসিডেন্ট ও অন্য শীর্ষ নেতাদের ভোরেই অভিযান চালিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ো নিউন্ট মিয়ানমারবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইরাবতীকে বলেছেন, ‘এটা একটা সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা, তবে সামরিক বাহিনী বলতে পারে যে এটা অভ্যুত্থান নয়। তারা প্রেসিডেন্টকে জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বলতে পারে।’

মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, একমাত্র প্রেসিডেন্টই জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে পারেন।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, ‘নির্বাচনে প্রতারণার’ অভিযোগ নিয়ে যে রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ‘ব্যবস্থা গ্রহণের’ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ওই ব্যবস্থা কী অভ্যুত্থান হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে এ সপ্তাহে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছিলেন, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে শনিবারের অফিশিয়াল বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি তাদের প্রধান জেনারেল সংবিধান বিলোপের যে কথা বলেছেন, সংবাদমাধ্যমসহ কিছু সংস্থা তার অপব্যাখ্যা করেছে।

জান্তা আমলে তৈরি মিয়ানমারের সংবিধানে সেনাবাহিনীকে বেশ কিছু ক্ষমতা দেওয়া আছে। যেমন: পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসনের সদস্য সরাসরি সেনাবাহিনী থেকে আসবেন। এতদিন পর্যন্ত দেশটির বেসামরিক সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেই দেশ পরিচালনা করে আসছিল। নভেম্বরের নির্বাচন নিয়েই প্রথম দুই পক্ষ সরাসরি এতটা বিরোধে জড়িয়েছে। সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর আগেই বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যকার আলোচনা ভেস্তে যায়।

Related posts

এসএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করলো এনসিটিবি

Maydul Islam

হারিকেন গ্রেসের আঘাতে মেক্সিকোয় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

srabon

পাহাড়ে আটকা পড়া ৪ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে বিমান বাহিনী

Labonno

Leave a Comment

Translate »