অক্টোবর ১৯, ২০২১
মানচিত্র
বাংলাদেশ

ভুয়া নিকাহনামায় যৌতুক মামলা, নকল স্ত্রীকে খুঁজছে যুবক

চার বছর ঢাকার মাটিতে পা রাখেননি সিলেটের যুবক মারজানুল হক। অথচ গত ৫ জানুয়ারি হঠাৎ যৌতুকের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে তার বাড়িতে হাজির। এরপর এক নারী তার স্ত্রী পরিচয়ে ভুয়া নিকাহনামা দিয়ে মামলা করার বিষয়টি জানতে পারেন। এখন সেই নারীর খোঁজে আদালতে ঘুরছেন মারজান। অথচ কোথাও নেই সেই নারীর অস্তিত্ব।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযোগকারী নারী মমতাজ বেগম মামলায় যে নিকাহনামার কথা উল্লেখ করেছে সেই তথ্যের সঙ্গে কাজীর নামের মিল নেই। এমনকি মামলায় যে নিকাহ নিবন্ধন নম্বর দেয়া হয়েছে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, সেই নিবন্ধন নম্বরে কোনো বিয়ে ইস্যু হয়নি। এছাড়া রাজধানীর ইসলামপুরের কাজী অফিসে আসামি মারজানের নামে কোনো বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদের কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে নিকাহ রেজিস্ট্রারের সত্যতা যাচাইকরণের জন্য মারজানুল হক গত ১২ জানুয়ারি ঢাকার জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় বরাবর আবেদন করেন। তারপর জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র দেন। সেখানে বলা হয়, রাজধানীর কোতোয়ালির ইসলামপুর কাজী অফিসে শহিদুল ইসলাম নামে কোনো নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার নেই। এখানে মো. সাদেক উল্লাহ নামের নিকাহ রেজিস্ট্রার আছে। অথচ মামলায় নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজী শহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরার আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মমতাজ বেগম বাদী হয়ে মারজানুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ বিষয়ে মারজানুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে মমতাজ বেগম নামের যে নারী যৌতুকের মামলা করেছে তার দেয়া ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ করি। কিন্তু সেখানে তাকে পায়নি। এমনকি সেই বাসায় তার নামে কোন নারী থাকে না। এরপর গত ১৯ জানুয়ারি মামলার ধার্য তারিখ ছিল। ভাবছিলাম সেই নারী আদালতে আসবে। এজন্য আদালতে তার খোঁজে পাহারা দিয়েছি কিন্তু তাকে পাইনি। গত ২০ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছি। তবে এ মামলার সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। আশা করি, তিনটি ধার্য তারিখ পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পাব।

তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, এ মামলার কারণে সামাজিকভাবে নিজের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। এই প্রথম কোনো কারণে আমাদের বাড়িতে পুলিশ আসে। এদিকে আমার মা অসুস্থ। এ ঘটনা নিয়ে খুব চিন্তা করছে। অন্যদিকে আমার পরিবার একই অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আমি চাই এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আর মূল ঘটনা বের হয়ে আসুক। যাতে আমার মতো অন্য কেউ এমন ভোগান্তির শিকার না হয়।

এ বিষয়ে মামলার বাদীর আইনজীবী জান্নাতুল ইসলাম বলেন, মমতাজ বেগম মামলার ডকুমেন্টস নিয়ে এসেছিল। তারপর আমি সেগুলো দেখে মামলায় সহযোগিতা করেছি। আসলে তার ডকুমেন্টস ভুয়া না সঠিক সেটা তো বলতে পারব না। তবে এ মামলার বিষয়ে কয়েকজন ফোন দিয়েছিল। তারপর মামলা বাদী মমতাজের সঙ্গে মামলার সত্যতা নিয়ে কথা বলি। এরপর সে আমার কাছে থেকে মামলার ফাইল নিয়ে গেছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মুকুন্দ বৈদ্য মুকুল বলেন, আসামি মারজানুল হকের বিরুদ্ধে ভুয়া নিকাহনামা দিয়ে যৌতুক নিরোধ আইনে এক নারী মামলা করেন। অথচ ঐ নারী তার স্ত্রী নয়। যা আদালতে উপস্থাপন করি। এরপর আদালত এ মামলায় তাকে জামিন দেন। এই মামলার অভিযোগের মারজানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

মানচিত্র২৪/রা.হা

Related posts

লালপুরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন

srabon

বিয়ে বাড়িতে নাচ-গান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২

Maydul Islam

বনবিভাগের প্রজনন কেন্দ্রের কুমির অবমুক্ত।

রাজন চৌধুরী

Leave a Comment

Translate »