অক্টোবর ১৯, ২০২১
মানচিত্র
অপরাধ

কিশোরীকে  অপহরণ করে  ধর্ষণ

কিশোরীকে  অপহরণ করে  ধর্ষণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলায় দু’ধরণের প্রতিবেদনে সাত বছরের শিশুকে ১১ বছরের শিশু কর্তৃক ধর্ষণের দুই ধরনের প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ ১০ চিকিৎসক ও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ঘটনাটির সঠিক তদন্তের ব্যবস্থা করতে আইজিপি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  আজ রবিববার (১৭ জানুয়ারি) অভিযুক্ত শিশু হাইকোর্টে জামিন নিতে গেলে নথির অসামঞ্জস্যতা দেখে এ আদেশ দেন আদালত।  গেলো বছর ৬ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একটি ধর্ষণের মামলা হয়। মামলার সময় অভিযুক্ত শিশুর বয়স উল্লেখ করা হয় ১৫। এই ঘটনায় দুটি প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। একটি প্রতিবেদনে বলা হয় অভিযুক্তের বয়স ১৫। আরেক প্রতিবেদনে পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের বয়স ১১। অপরদিকে চিকিৎসকদের পাঁচজনের একদল প্রথমে প্রতিবেদন দেয় ধর্ষণ হয়নি। আরেক দল উল্টো রিপোর্ট দেয় ধর্ষণ হয়েছে। অভিযুক্ত শিশুর জামিন আবেদনে বয়স লেখা হয় সাড়ে ১১ বছর।  এমন দু’রকম রিপোর্ট দেখে প্রশ্ন তোলেন আদালত। বয়স নিয়ে লুকোচুরি করায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত। পরে ধর্ষণের এই মামলার পুরো কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এবিষয়গুলো নিষ্পত্তির পর মামলার বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলেও জানানো হয়।

এর আগে ২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নির্যাতিতার বাবা নাসিরনগর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর তার ৭ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মামলায় আসামি তার প্রতিবেশী, যার বয়স উল্লেখ করা হয় ১৫ বছর।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে পরদিন নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থায় ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি ডাক্তারি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

এদিকে আসামি হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে গত ৩ নভেম্বর এর শুনানি হয়। সেদিন আসামির বয়স প্রমাণের জন্য তার জন্মসনদ দাখিল করা হয়। জন্মসনদ অনুযায়ী তার বয়স ছিল ১০ বছর। এ অবস্থায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার কেস ডকেট (সিডি) এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। একইসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা ও নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেন। এসময় জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ১২ সেপ্টেম্বরের দেওয়া একটি ডাক্তারি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সে প্রতিবেদনেও অসঙ্গতি দেখার পর আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা জেলা সদর হাসপাতালের আরেকটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। সে আবেদনেও নির্যাতিতা শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একাধিক চিকিৎসক ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন এবং তদন্তে গাফিলতি প্রতিয়মান হওয়া উপরোক্ত আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।

Related posts

farah pushpita

 চুরি হওয়া শিশুকে তিনদিন পর  উদ্ধার গ্রেফতার ২

srabon

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্ষণ-হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

srabon

Leave a Comment

Translate »