আগস্ট ১৪, ২০২২
মানচিত্র
অপরাধ

ভূয়া রাজনৈতিক পরিচয়ে ফায়দা হাসিলই তার কাজ

ভূয়া রাজনৈতিক পরিচয়ে ফায়দা হাসিলই তার কাজ

ঢাকা কলেজ থেকে বেশ কয়েকবছর আগে স্নাতক (অনার্স) পাশ করলেও চাকরি না করে মিথ্যা-ভূয়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ফায়দা হাসিলের কৌশল রপ্ত করেন এ ব্যক্তি। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিতেন নিজেকে তিনি অন্যদের কাছে। এক পর্যায়ে লাইসেন্স নিয়ে শুরু করেন ঠিকাদারী ব্যবসা। কাজ পেতে এসব পরিচয়কেই কাজে লাগাতেন তিনি। সম্প্রতি সড়ক ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদেরের এপিস পরিচয় দিয়ে চাকরি, বদলী ও কাজ পাওয়ার নানা তদবীর বানিজ্য করে যাচ্ছিলেন তিনি। এসব করে ঢাকায় ফ্ল্যাটও কেনেন এ ব্যক্তি। সব শেষ মন্ত্রীর এপিস পরিচয়ে এলজিইডি মন্ত্রনালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একজনের চাকরির তদবীর চালিয়ে যাওয়ার সময় মোজাম্মেল হক ইয়াসিন (৩৩) নামে এ ব্যক্তি ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার জালে ধরা পড়লে বেরিয়ে আসে এমন তথ্য। রাজধানীর কামরাঙ্গি চড়ের জাউল হাটি এলাকা থেকে গতকাল বুধবার বিকালে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। গ্রেপ্তার অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিবি লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালী জোনাল টিমের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সাইফুর রহমান আজাদ

মন্ত্রীর পিএস গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, মোজাম্মেল হক ইয়াসিন নামে মন্ত্রী মহোদয়ের কোন এপিএস নেই। ডিবির মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাদেরকে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ও ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট না হলেও ছাত্রলীগের জাকির-সোহাগ কমিটির সময় তিনি কমিটিতে সদস্য ছিলেন বলে দাবী করেছেন ইয়াছিন। তবে এ ব্যাপারে তিনি কোন প্রমান দিতে পারেনি এখনো। তিনি রাজনৈতীক পরিচয়ে ঠিকাদারী শুরু করেন। দমকল বাহিনীর বিভিন্ন কাজ করছিলেন। এছাড়াও গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার মদনপুর থানাধীন এলাকার প্রসাশনিক উর্ধতন ব্যক্তিদের সঙ্গেও মিথ্যা পরিচয়ে সম্পর্ক গড়েন তিনি। সম্প্রতি মদনপুর লাইভস্টকে ঠিকাদারী কাজ করেন তিনি। এছাড়াও এলাকার একটি মসজিদে ১৫ হাজার টাকায় হুজুর নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে তদবীর করছিলেন তিনি।

মন্ত্রনালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অস্থায়ী কার্য-সহকারী পদে মাঈন উদ্দিন নামে একজনের চাকরির জন্য প্রধান প্রকৌশলীর কাছে যান ইয়াছিন। এ সময় নিজেকে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদেরের এপিস পরিচয় দেয় তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডিবিকে জানালে তাৎক্ষনিক তদন্ত শুরু করে ডিবি। এরই ধারাবাহিকতায় ইয়াছিনের প্রতারণার বিষয়ে ডিবি নিশ্চিত হলে গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করে।  সে ভাবেই তাকে চেনা। তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ তিনি। নেত্রকোনার মদনপুরে নিজ বাড়িতে মাছের ব্যবসা করেন। তার নামে দুটি পুকুর রয়েছে। তার বড় ভাই লোটাস ময়মনসিংহে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ও ছোট ভাই মিল্টন ময়মনসিংহেই আনন্দ মোহন কলেজে পড়ে। কয়েকদিন আগে কাজের বিষয়ে কথা হলে তাকে চাকরী যোগাড় করে দেবার কথা জানায় ইয়াসিন। তবে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এদিকে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদেরের এপিস আবু তাহের মোহাম্মদ মহিদুল হক  জানান, এ বিষয়ে তার জানা ছিল না। গতকাল পুলিশের কাছ থেকে এমন তথ্য পান তিনি।

 

এছাড়াও পুলিশের এসআই ও কনস্টেবল পদেও বদলীর তদবীর করেছেন তিনি। তাকে কামরাঙ্গি চড়ের যে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সে ফ্ল্যাটটি সম্প্রতি কেনেন তিনি। তারই কাজ করাচ্ছিলেন। এ সময়ই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালী জোনাল টিমের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদেরের এপিস পরিচয় দিয়ে প্রতারণার বিষয় স্বীকার করেছে। তার আরো বিষয যাচাই-বাছাই চলছে। তাকে রিমান্ডে আনা হবে। সে সময় আরো তথ্য উঠে আসবে বলেও মন্তব্য করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

Related posts

চট্টগ্রামে ব্যারিস্টার পরিচইয়ে হাতিয়ে নিত টাকা

srabon

মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটের হাতে বাবা জখম

Sakib

ব্রিটেনের রানির বাড়ির সামনে থেকেও ফোন চুরি হয় :পরিকল্পনামন্ত্রী

sahadat Hossen

Leave a Comment

Translate »