জানুয়ারি ২৫, ২০২২
মানচিত্র
সাহিত্য

সম্পর্কবিহীন ভালোবাসা পর্ব – ৩

সম্পর্কবিহীন ভালোবাসা পর্ব – ৩

মরিয়ম লিপি।

বহুদিনের বুকে চাপিয়ে রাখা কষ্ট কিছুটা শেয়ার করে অনেক দিন পর বুকটা হাল্কা লাগছে কিন্তু মাথাটা কেমন যেন ভার হয়ে আছে,শুভ্রা কাঁদলে সেই রাত্রে খুব সহজেই ঘুম চলে আসে,হারানো স্মৃতি গুলো আর কড়া নাড়তে পারেনা হৃদয়ের দরজায়, যা প্রতিরাত্রেই হয়,আজ বহু মাস পর খুব সহজেই কষ্টের মাঠ থেকে বেরিয়ে সুখের চাদরে ঘুমিয়ে পড়লো। মোবাইল চার্জে দেয়ার কথা আর মাথায় এলোনা। ঘুম ভাঙলো দুপুর ১২ টায়।যে মোবাইলে কথা বলেছিল নাহিয়ানের সাথে সেই মোবাইলটা বন্ধ করে ঘুমিয়েছিল, মোবাইল খুলেই এসএমএস এলো Good Morning… অপেক্ষায় আছি! এসএমএস টা একবার নয় ৫/৬ বার পড়লো, আর প্রতিবার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সুখ অনুভব করছে,ফোন দিল শুভ্রা। এক রিং হতেই নাহিয়ান ফোনটা ধরে ফেললো,বুঝা গেল ফোনটি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছিল।হ্যালো বললো নাহিয়ান, গলায় উত্তেজনার সুর, শুভ্রা কেমন আছ? এত দেরি করলে ফোন দিতে? শুভ্রা বললো আমি মাত্র উঠেছি।ওপাশ থেকে নাহিয়ান বলছে, হুম ভয়েসেই বুঝা যাচ্ছে,শরীর কেমন? শুভ্রা- ভালো,আপনার? নাহিয়ান – হুম আমিও ভালো আছি এখন। সকাল থেকে অস্থির লাগছিল।আপনি ফোন করবেন কিনা, আর এত বেলা হয়ে যাচ্ছে, দিচ্ছেন না।কত্ত বার ফোনটাকে হাতে নিয়েছি,বার বার চেক করেছি, নাহিয়ানের কথা গুলো শুনে খুব ভালো লাগছে শুভ্রার, অচেনা সুখ খেলা করছে মনের অজান্তে। শুভ্রা জানতে চাইলো নাস্তা করেছেন? নাহিয়ান – হুম কখন। এখন নামাযে যাব, সেদিন শুক্রবার ছিল।নাহিয়ানদের বাসায় রেওয়াজ ছিল ৫ ভাই আর ওদের বাবা সহ সবাই এক সাথে মসজিদে শুক্রবার দিন আর ঈদে নামাযে যায়। নাহিয়ান বললো আমি নামায পড়ে এসে, ভাত খেয়ে ফ্রি হই।আপনি নাস্তা করে ফ্রি হয়ে এসএমএস দিন।আজ বাসায় আছি।মেসেঞ্জারে আসবো কথা হবে।শুভ্রা – অবশ্যই, নামায পড়ে আসুন।আমি শাওয়ার নেই। ফ্রি হই।কথা শেষ করে দুজনে আল্লাহ হাফেজ বলে ফোন রাখলো।শুভ্রা তাড়াতাড়ি মোবাইলটা চার্জে দিল।শাওয়ার নিলো।নাস্তা খেতে গেল, ওমনি বোন জিজ্ঞেস করলো শরীর ভালো? শুভ্রা বললো হুম আপু।এত বেলা পর্যন্ত ঘুমালি আজ? শুভ্রা বললো আপু রাত্রে ঘুম আসছিল না, অনেক ভোরে ঘুমিয়েছি।অনেক দিন পর আপুকে মিথ্যে বলছে,নিজের কাছে নিজেকে অপরিচিত লাগছে,এমনি হয় যখন মানুষ প্রেমে পড়ে বা নতুন কোন সম্পর্কের সাথে জড়াতে যায়,তিথী চলে এলো।খালামনি সেই সকাল থেকে ডাকছি, দরজা নক করছিলাম।খুলোনি কেন? শুভ্রা – খালামনি আজকে বেশি ঘুমিয়েছি সোনামানিক।কিছুক্ষণ তিথীকে সময় দিল।এরপর চা খেয়ে মোবাইলে এসএমএস দিল।ঘড়ির কাটায় ২টা৩৯ মিনিট। নামায শেষ নিশ্চয়ই। ফেসবুকে ঢুকলো আবার হোমপেইজে ঘুরছে হঠাৎ নাহিয়ানের এসএমএস Hi শুভ্রা – হুম বলুন কি অবস্থা? এইতো ভালো,শুভ্রা – কি খেলেন? নাহিয়ান – শুক্রবার মা পোলাও বা খিচুড়ি রান্না করে,আজ পোলাও, মুরগি, সালাদ,আপনি – আমি নাস্তা করেছি একটু আগে এখনো কিছু খাইনি,নাহিয়ান – এমন অনিয়ম চলবে না কিন্তু।শুভ্রা- লক্ষী মেয়ের মত বলল, ঠিক আছে।কি করবেন আজ সারাদিন? নাহিয়ান – কিচ্ছু না, সারাদিন গল্প করবো আপনি যদি সময় দিন। শুভ্রা – অবশ্যই।আমারও কিছু করার নেই।শুভ্রা জিজ্ঞেস করলো, একটা কথা জিজ্ঞেস করি? আজ শুক্রবার ভাবির সাথে দেখা করবেন না? নাহিয়ান – না, ও বেড়াতে গেছে। ওর মত থাকুক।শুভ্রা- আজকে ফোন দেন নি ভাবিকে বা ভাবি ফোন দেয়নি? নাহিয়ান- না।শুভ্রার মনে খটকা লাগছে,নাহিয়ান কিছু লুকাচ্ছে।আপনাদের বিয়ে হয়েছে কত বছর? নাহিয়ান – ৭ বছর। শুভ্রা – বাচ্চা আছে? নাহিয়ান – হু ২ টি মেয়ে।শুভ্রা- কত বছর বয়স ওদের? নাহিয়ান – একজনের ৫ আরেকজনের ৩ বছর।শুভ্রা – কি নাম ওদের? নিশি, নিঁখাত। শুভ্রা – বাহ খুব সুন্দর নাম।বাচ্চারা পড়ে কোন স্কুলে? বড়জন আমাদের বাড়ির কাছে কিন্ডার গার্টেনে পড়ে। এসব এলোমেলো কথায় কথায় বিকেল পেরিয়ে গেল,সন্ধ্যা হবে।নাহিয়ান বললো, আপনি খেয়ে আসুন।আমি ছোট্ট একটা ঘুম দেই, উঠে এসএমএস দিলে অনলাইনে আসবেন।শুভ্রা বললো ঠিক আছে।অপেক্ষায় রইলাম।শুভ্রা মোবাইল রেখে ভাবছে ২ টি মেয়ে আছে,বউ এর সাথে কি কোন সমস্যা? আজ জানতে হবে।শুভ্রা খেয়ে নিলো।শুভ্রার দুলাভাই জিজ্ঞেস করলো শালিকা কার সাথে ব্যস্ত মোবাইলে?শুভ্রা- এক বান্ধবির সাথে অনেক দিন পর যোগাযোগ হলো।দুলাভাই সত্যি তো? নাকি নতুন বন্ধু জুটিয়েছ? চোখে মুখে কেমন যেন রোমান্টিক ভাব দেখছি।শুভ্রা হেসে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলো।দুলাভাইকে পালটা প্রশ্ন করলো আমার চাকরির ব্যাপারে কত দূর হলো দুলাভাই? দুলাভাই – এর মধ্যেই ডাকবে। তৈরি হও। রাত জাগলে হবেনা। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে শুভ্রার চাকরির জন্য দুলাভাই চেষ্টা করছে।শুভ্রাকে বহুবার বিয়ে করে নতুন করে জীবনটা সাজাতে বলেছিল,শুভ্রা রাজি হয়নি।এত বড় ধাক্কা খেয়েছিল সেটা সামাল দিতে অনেক সময় পার হয়ে গেল।মাত্র ৪ মাসের পরিচয়ে প্রেম, এরপর বিয়ে হয়েছিল শুভ্রার।বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই রিজভির আসল রুপটা চোখের সামনে ধরা পড়েছিল।রিজভি নেশা করতো কিন্তু শুভ্রাকে বলেনি,এছাড়াও প্রচন্ড বদ মেজাজী ছিল, কথায় কথায় বিয়ের ১ মাস না যেতেই শুভ্রা কে মারতো।বিয়ের পর শুভ্রাকে সময় দিতোনা।বন্ধু,বান্ধবি নিয়ে ব্যস্ত থাকতো।অনেক রাত করে বাসায় ফিরতো নেশা করে।কখনো কখনো রাত্রে বাসায়ও আসতো না,ফোন ধরতো না,এভাবে কেটে গেছে বিবাহিত জীবনের ২ বছর।একটা সময় শুভ্রা এসবের প্রতিবাদ করলে বাসা থেকে মেরে বের করে দেয়।এরপর ডিভোর্স পেপার্স পাঠালো রিজভি।শুভ্রা ভেবেছিল রিজভি ওর ভুল বুঝতে পেরে একদিন শুভ্রাকে নিতে আসবে।নাহ রিজভি আসলো না, এলো ডিভোর্স পেপার্স। পেপার্স পেয়ে শুভ্রা ফোন দিয়েছিল রিজভিকে, খুব কেঁদেছিল।খুব রিকুয়েষ্ট করেছিল নেশা ছেড়ে নতুন করে জীবন টা সাজানোর।রিজভি কিছুতেই কিছু শুনলো না।প্রচন্ড বদ মেজাজী।নেশা আর বন্ধু বান্ধবিই যখন জীবনের মূল আনন্দ তাহলে একটি মেয়েকে নিজের জীবনের সাথে জড়ায় কোন বিবেক নিয়ে এসব পুরুষ? শুভ্রার জীবন থেকে রিজভি চলে গেছে ২ বছর হলো।সন্ধ্যা পার হয়ে গেল।ঘড়ির কাটা ৮ টার ঘরে।শুভ্রার অস্থির লাগছে। নাহিয়ান কে এসএমএস দিল।কোন খবর নেই।প্রায় পার হলো ১ ঘন্টা রাত্র ৯ টা বাজলো।শুভ্রা ফোন দিল ধৈর্য হারিয়ে,চিন্তা হচ্ছে খুব।ফোন বাজছে কিন্তু ধরছে না।

চলবে…

Related posts

কবিতা।

রাজন চৌধুরী

মুক্ত স্বাধীন ভাবে বাঁচা 

farah pushpita

#ঈদ_স্মৃতি

farah pushpita

Leave a Comment

Translate »