জানুয়ারি ২৪, ২০২২
মানচিত্র
সাহিত্য

সম্পর্কবিহীন ভালোবাসা পর্ব – ২

সম্পর্কবিহীন ভালোবাসা পর্ব – ২

মরিয়ম লিপি।

সময় মানুষকে বদলে দেয়,কিছু মূহুর্তের আনন্দকে আঁকড়ে ধরে জীবন কে সুন্দর করার প্রত্যাশা করে তাদের জীবন ভুলে ভরা গল্প হয়ে উঠে।জীবনে যারা একবার ধাক্কা খায় তারা এই বোকামী বেশি করে ফেলে,নিজেকে একাকীত্ব জীবন থেকে মুক্তি দেয়ার লোভে মরিয়া হয়ে উঠে ।  সুখের পিছনে ছুটে ছুটে হাঁপিয়ে উঠে তারা তাই একটু আশ্বাস সূলভ আচরণে ঝাপটে পরে, জীবনকে আরোও বেশী অন্ধকারের পথে ঠেলে দেয় মানুষ।

যা বলছিলাম খাবারের টেবিলে শুভ্রা চ্যাটিং শুরু করেছিল নাহিয়ানের সাথে । শুভ্রা নাহিয়ানকে অপেক্ষা করতে বললো, ভাত খেয়ে নক দিচ্ছি।

নাহিয়ান প্লিজ নক দিবেন । আমার মনটা খুব খারাপ,খুব একাকীত্ব বোধ করছি । অপ্রীতিকর আবদার তবুও প্লিজ আজ একটু সময় দিন।

লিখাটা পড়ে শুভ্রার একটু খারাপ লাগলো, বললো অবশ্যই আসবো তাড়াতাড়ি, কথা দিলাম। ভাত খেয়ে শুভ্রা টেবিল গুছিয়ে, মোবাইল নিয়ে নাহিয়ানকে ১০ মিনিটের মধ্যে নক দিল।

কি খবর বলুন? কি হয়েছে আপনার?

নাহিয়ান – তেমন কিছু না, শুভ্রা – একার কথা কি বলছিলেন? নাহিয়ান-দীর্ঘশ্বাস ফেলে থাক পরে বলি।আপনার কথা বলুন।শুভ্রা- জোর করলো না, শুভ্রা বুঝলো সময় হলে ঠিক ঠিক বলবে,শুভ্রা বলল আপনি কি করেন? মানে এই মূহুর্তে না (হা হা হা) নাহিয়ানও হাসলো (হা হা হা) আমি ছোট খাট ব্যবসা করছি।শুভ্রা- আপনার বাসায় কে কে থাকেন? নাহিয়ান – বাবা, মা,আমরা ৫ ভাই আর আমার বউ।শুভ্রা- ভাবি এখন কোথায়? এই কথাটা জিজ্ঞেস করার উদ্দেশ্য একাকীত্ব লাগছে বলেছিল সেই জন্যেই।নাহিয়ান- ও বাসায় নেই, ওর বাবার বাড়ি বেড়াতে গেছে। নাহিয়ান পালটা জিজ্ঞেস করলো আপনার বাসায় কে কে আছেন? শুভ্রা- আমি আপুর বাসায় থাকি,আপু,দুলাভাই আর আমার ভাগ্নি তিথী। শুভ্রা- জানতে চাইলো ভাবি কবে আসবে? নাহিয়ান – এইতো কিছু দিনের মধ্যে।এভাবে একের পর এক প্রশ্ন, উত্তর, ভালো লাগা,প্রিয় রঙ, প্রিয় কাপড়, প্রিয় গান,প্রিয় ছবি,নানান কথা বলতে বলতে শুভ্রা বললো আমরা কি মেসেঞ্জারে কথা বলতে পারি? নাহিয়ান – বলা যায়। শুভ্রা কল দিলো ঐ পাশ থেকে ভরাট কন্ঠের কন্ঠটি শুনে শুভ্রার খুব ভালো লাগলো এবং খুবি স্মার্ট কথা বলার স্টাইল। আসলে কথা বলার ভাষাটা যদি শুদ্ধ না হয় কথা বলে মজা পাওয়া যায়না,উল্টাপাস থেকে নাহিয়ান বলছে বাহ আপনার ভয়েসতো খুব সুন্দর।কথার সুরে সুরে এক সময় শুভ্রার মোবাইলের চার্জ চলে যাচ্ছে,আজ বিকেলে ড্রইং রুমে চার্জ দিয়ে চার্জার নিজের ঘরে আনা হয়নি।কিন্তু এই মূহুর্তে ফোনটাও রাখতে ইচ্ছে করছে না,তবে শুভ্রার আরেকটি মোবাইল আছে নাম্বার দিলে কল দিতে পারবে, কথাটি নাহিয়ানকে জানালো।নাহিয়ান ওর সেল নাম্বার টি দিলো।শুভ্রা কল দিলো, আবার শুরু হলো এলোমেলো গল্প। কিন্তু কেউ কারোর ফেলা আসা কষ্টের কথা শেয়ার করছেনা,এভাবেই যেন ভালো লাগছে নিজেদের নতুন করে ভাবতে।ভোর হয়ে এলো প্রায়,শুভ্রা বলা শুরু করলো ওর জীবনে ঘটে যাওয়া কষ্টের গল্প।জীবনে কিভাবে ঠকেছে একবার একটি মানুষকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসে,এরপর বিয়ে হয়েছিল।ও পাশ থেকে নাহিয়ান মন দিয়ে শুনছে,শুভ্রা বলতে বলতে কেঁদে উঠলো।নাহিয়ান কিভাবে বুঝাবে বুঝতে পারছেনা বার বার বলছিল প্লিজ শুভ্রা কেঁদোনা, প্লিজ কেঁদোনা।আমার খারাপ লাগছে।শুভ্রা কোন ভাবে নিজেকে সামাল দিয়ে নাহিয়কনকে বললো কাল কথা হবে,নাহিয়ান বললো কাল মানে? এখন ভোর ৪’৩০ বাজতে চলেছে।কখন উঠবেন আপনি বলুন? শুভ্রা বললো আমি উঠে কল দিব সমস্যা নেইতো? নাহিয়ান বললো না কিসের সমস্যা,আমি অপেক্ষা করবো।

চলবে…

Related posts

……….শিকারী ……..

farah pushpita

সম্পর্কবিহীন ভালোবাসা

farah pushpita

বইমেলা শুরু ১৮ মার্চ, শেষ ১৪ এপ্রিল

Labonno

Leave a Comment

Translate »