আগস্ট ১৪, ২০২২
মানচিত্র
জীবনধারা

শীতকালে খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায়!

খুশকি বা ড্যানড্রপের সাথে আমরা কম বেশি সকলেই পরচিত। খুশকির কারণে দেখা দেয় চুলের সমস্যা, চুল পড়ে অনেক বেশি। এটি সাধারণত স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে হয়ে থাকে। খুশকিকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় স্যাবোরিক ডার্মাটাইটিস।

এটি বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে, তার মধ্যে আছে ফাংগাসের কারণে, পাশাপাশি কিছু হরমোনাল কারণে, এছাড়া ঋতু পরিবর্তন, যেমন ধরুন শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় এর প্রকোপ বেড়ে যায়। এ ছাড়াও ধূলাবালির মধ্যে কাজ করছেন নিয়মিত, প্রচুর ঘামছেন, তাদের এই সমস্যা বেশি হয়।

মেয়েরা হিজাব পড়লে মাথায় অনেক ঘাম হয়। সারাদিনের কাজ শেষে তাদের উচিত বাসায় এসে প্রথমেই দ্রুত হিজাব খুলে মাথাটা শুকানো। যদি খুব বেশি ঘামেন ও বাসায় এসে শুকানোর পর মাথা আঠালো হয়ে পড়ে,তাহলে উচিত হচ্ছে গোসল সেড়ে ফেলা। আর অবশ্যই গোসল শেষে মাথার চুল ভাল করে শুকাবেন। অল্প শুকিয়ে চুল বেঁধে ফেললে চুলে খুশকি ও ফাংগাস হয়ে চুল পড়া বেড়ে যাবে। এছাড়া চুলের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানের ঘাটতি যেমন বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেলস এর ঘাটতির কারণেও খুশকির সমস্যা হয়।

খুশকির আরেকটা কারণ হচ্ছে ড্রাই স্কিন বা ত্বকের শুষ্কতা, অর্থাৎ যাদের ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক, শরীরে প্রায়ই পানিশূন্যতা থাকে, তাদের স্কিনের শেডিংটা বেশি হয়। এর কারণে খুশকির প্রবণতা বেশি হয়। পানিশূন্যতা দূর করতে হবে। সেজন্য নিয়মিত প্রচুর পানি খাবেন।একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ২-২.৫ লিটার পানি খাওয়া জরুরি।

খুশকি প্রতিরোধ করতে চাইলে এই সব সমস্যা এড়িয়ে চলবেন। পানি খেলে ডিহাইড্রেশন দূর হয়, ত্বক সতেজ থাকে, শেডিং কম হয়, ফলে স্কিনের ঝরে পড়া কমে। অর্থাৎ খুশকির সমস্যা কমে যায়। নিয়মিত বেশি বেশি তেল দেয়া পরিহার করুন।

এবার জেনে নেই খুশকি দূর করার উপায়

যেহেতু এখানে একটি ছত্রাক ভূমিকা পালন করে। তাই এটাতে প্রদাহ বা inflammation হয়ে থাকে। এই প্রদাহ ও ফাংগাসকে কিল করার জন্য আমরা মেডিসিন যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলি।

সাধারণত কিটোকোনাজল কিংবা সেলেনিয়াম সাল্ফাইড সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়।সপ্তাহে দুইদিন এই শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। এই শ্যাম্পু মাথায় লাগিয়ে ফেনা তৈরী করবেন তারপর ৫-১০ মিনিট রেখে দিবেন। তাতেই খুশকি ভাল হয়ে যাবে। তবে যাদের একটু খুশকির পরিমাণ বেশি তাদের কিছু ওষুধ সেবনের প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেসব ওষুধ খাওয়া উচিত।

এ ছাড়াও রয়েছে কিছু প্রাকৃতিক উপায়-

এছাড়া এলোভেরা জেল যেটাকে বলা হয় প্রাকৃতিক কন্ডিশনার সেটা ব্যবহার করতে পারেন, এলোভেরাতে আছে ছত্রাকবিরোধী ও জীবানুনাশক গুণাবলি যা মাথাকে বিভিন্ন জীবানু থেকে রক্ষা করতে পারে ও খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। এলোভেরার রস চুলে দিয়ে, সেটা ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

এলোভেরার সাথে আপনি ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এটা সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করবেন। আবার এলোভেরা সাথে তেল এর পরিবর্তে লেবুর রস, পিয়াজের রস দিয়ে মিশ্রণ তৈরী করে ব্যবহার করলে মাথায় ত্বক পুষ্টি পাবে, ফলে চুল পড়া ও খুশকি দূর করতে সাহায্য করবে।

এপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। এটি মাথার ত্বকে থাকা ফাংগাস, ব্যাকটেরিয়া এর বিরুদ্ধে কাজ করে।

এপল সিডার ভিনেগার নিবেন ১ চা চামচ, সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে মাথায় লাগাবেন। এরপর ৫-১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর গোসল করে ধুয়ে ফেলুন।

মানচিত্র২৪ ডটকম//এলএইচ//

Related posts

একজন তরুণ সাংবাদিক ও লেখক ‘রাব্বি হোসেনের’ সংক্ষিপ্ত জীবনী

Rabbi Hasan

আজ অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব এলাকা ও মার্কেট

Joyeeta

শীতে শরীর গরম রাখবে যেসব খাবার

Labonno

Leave a Comment

Translate »