জানুয়ারি ২৫, ২০২২
মানচিত্র
টেকনোলজি

তথ্য-প্রযুক্তি গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি

তথ্য-প্রযুক্তি গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি

গতকাল বুধবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ আইসিটিবিষয়ক মেলা ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০২০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নিয়মিত গবেষণা ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে বর্তমান সরকার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক, মেহনতি জনতা, বাংলার মাটি ও মানুষকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সঙ্গে সংযুক্ত করতে পেরেছে। ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের মূল্য হ্রাস, অবকাঠামো সৃষ্টি এবং সর্বোপরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে গত কয়েক বছরে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটেছে।

তিনি জানান, ২০০৯ সালের আগে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ, বর্তমানে সেই সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। সারা দেশে ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে ৩৪০০ ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ হাজার ৫০০ সরকারি অফিসকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।

করোনা মহামারি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করলেও থামিয়ে দিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়ন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে যে দূরদর্শী অঙ্গীকার করেছিল, তারই সুফল আজ মানুষ ঘরে বসে পাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ই-কমার্সের মাধ্যমে ঘরে বসে কেনা-বেচা করা, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম, ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম, টেলিমেডিসিন সেবাসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা এ কঠিন সময়ে জীবনযাত্রাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের ফলে দেশের সামনে নতুন এক শিল্প বিপ্লবের সুযোগ তৈরি হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এতে প্রধান অংশীদার দেশের তরুণরা। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের এ সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পাশাপাশি তারা নিজেরাও যাতে তথ্য-প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হতে পারে সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরো জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এ যুগে হাই-টেক শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার সারা দেশে ৩৯টি হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করছে। এগুলো নির্মাণ সম্পন্ন হলে তিন লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অন্যান্য খাতে চাকরির সুযোগ কমে এলেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কারণে অসংখ্য তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বর্তমানে দেশে সাড়ে ছয় লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছে।

আবদুল হামিদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার ও আইটি সেবা এখন আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ৬০ দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকল ক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিতকে আরো শক্তিশালী করেছে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফারহা পুষ্পিতা

Related posts

ঢাকার ২০০ স্থানে চালু হচ্ছে ৫-জি!

sahadat Hossen

মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩৫তম

sahadat Hossen

গোপননীয়তা ত্রুটির জন্য জরিমানা গুনতে হচ্ছে ফেসবুককে

Shahidul Islam

Leave a Comment

Translate »