জানুয়ারি ২৪, ২০২২
মানচিত্র
ব্রেকিং নিউজ

অবৈধ দোকান উচ্ছেদে বাধা , ডিএসসিসি ও  ব্যবসায়ীদের  সংঘর্ষ 

অবৈধ দোকান উচ্ছেদে বাধা , ডিএসসিসি ও  ব্যবসায়ীদের  সংঘর্ষ

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন   ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত পূর্বঘোষিত  রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া মার্কেটে নকশাবহির্ভূত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ।

অভিযান শুরু করতে গেলে মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। পরে বেলা ১টার দিকে মার্কেটের নগর প্লাজার সামনের ফুটপাতে থাকা দোকান ভাঙা শুরু করে ডিএসসিসি। এতে উত্তেজিত হয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় উভয় পক্ষে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ সময় সিটি করপোরেশনের দুই কর্মী আহত হন। এরপর পর্যায়ক্রমে অভিযান চলতে থাকে। মার্কেটটির অবৈধ ৯১১টি দোকানের মধ্যে ৩০০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রম চলে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

আজ বুধবার সকাল ১১টা থেকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ডিএসসিসির মালিকানাধীন এ মার্কেটটির এ বি ও সি ব্লকে (সিটি প্লাজা, নগর প্লাজা ও জাকের প্লাজা) নকশার বাইরে গিয়ে লিফট, সিঁড়ি, টয়লেটের জায়গা দখল করে ৯১১টি দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে সিটি প্লাজায় ৩০৮টি, নগর প্লাজায় ২৯২টি ও জাকের প্লাজায় ৩১১টি অবৈধ দোকান গড়ে তোলা হয়। নতুন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বিপণিবিতানের নকশাবহির্ভূত দোকান এবং এর সার্বিক পরিস্থিতি জানতে একটি কমিটি গঠন করেন। করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি বিপণিবিতানে নকশাবহির্ভূত ঐ দোকানগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো উচ্ছেদের সুপারিশ করে। কমিটির সুপারিশে সম্মতি দিয়ে নকশাবহির্ভূত দোকানগুলো উচ্ছেদের নির্দেশনা দেন মেয়র। এরপর শুরু হয় অভিযান। তবে দোকানিদের দাবি, সাবেক মেয়রের সময় নকশাবহির্ভূত এসব দোকান বৈধ করতে তারা লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন। এখন কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই দোকান উচ্ছেদ করার জন্য এসেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফুলবাড়িয়ার এই মার্কেটটিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুর। অভিযোগ রয়েছে, তিনি করপোরেশনের অনুমতি ব্যতীত অবৈধভাবে ঐ দোকানগুলো নির্মাণ করে বিক্রি করেন। এরপর বৈধতা দেওয়ার কথা বলে বছর বছর লাখ লাখ টাকা তোলেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেছেন ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। বিভিন্ন সময়ে নগর ভবনের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিদের নানাভাবে ম্যানেজ করেই ফুলবাড়িয়া মার্কেটে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। গত বছর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানকালে দেলোয়ার হোসেন দেলুর আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা গ্রেফতার হওয়ার পর মার্কেটে তার নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। এ ব্যাপারে জানতে ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন দেলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে একটি সূত্র জানায়, তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। সিটি প্লাজার ভুক্তভোগী দোকানদার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘১০ লাখ টাকা দিয়ে দুই হাতের এক শাটারের একটি দোকান কিনেছি। পরে এই দোকান স্থায়ী করে দেওয়ার কথা বলে দেলু আরো ১০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু এখন দোকান উচ্ছেদ করা হচ্ছে। করোনার থাবায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা মন্দা। এখন উচ্ছেদ করে দিলে পরিবার নিয়ে আমাকে রাস্তায় থাকতে হবে।’ আরেক দোকানদার রাফসান আহমেদ বলেন, ‘১৫ লাখ টাকা দিয়ে অস্থায়ীভাবে আমি দোকান নিয়েছি। এখন কেন ভাঙচুর হবে?’ কাকে টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এককভাবে কেউ টাকা নেয়নি, এখানে মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা আছেন, সিটি করপোরেশনের লোকজন আছে। আমি প্রায় সাত বছর আগে দোকান নিয়েছি।’ সিটি প্লাজা মার্কেট মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা অন্তত শীতের মৌসুমটা ব্যবসা করার সুযোগ চেয়েছিলাম। করোনায় এমনিতেই দীর্ঘদিন সবার ব্যবসা বন্ধ ছিল। অল্প কিছুদিন সময় পেলেও সবার উপকার হতো।’ এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, নকশার বাইরে গিয়ে দোকানগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। অবৈধ দোকান উচ্ছেদের আগে আমরা নোটিশ দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সব দোকান উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি জানান।

ফারহা পুষ্পিতা

Related posts

পল্লবীতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার আরেক আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

Maydul Islam

গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজন শক্তিশালী বিরোধীদল: প্রধানমন্ত্রী

Labonno

মোংলায় ১৩ কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোট বর্জন

Maydul Islam

Leave a Comment

Translate »